যানজটে দুর্ভোগ বেড়েছে ফরিদপুর শহরবাসীর

ভয়েস রিপোর্ট ঃ

পবিত্র রমজান মাসের প্রথম ১৬ দিন পেরিয়ে গেছে। সামনেই ঈদুল ফিতর। ঈদের কেনাকাটা করতে শহরের কেন্দ্রস্থলের বিপণিবিতানগুলোতে লোকসমাগম বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে শহরের যানজট

ফরিদপুর শহরের ভেতর দিয়ে চলে গেছে কুমার নদ। নদের উভয় পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে শহরের আবাসিক বাণিজ্যিক এলাকাগুলো। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাতটি সেতু দিয়ে নদ পারাপার করেন শহরবাসী। সেতুগুলো রয়েছে চুনাঘাট, দক্ষিণ আলীপুর, আলীপুর, তিতুমীর বাজার শরীয়তউল্লাহ বাজারের মাঝখানে, পূর্ব খাবাশপুর, চরকমলাপুর অম্বিকাপুর। শহরের দক্ষিণ পাশে শহরের ভাষাসৈনিক ইমামউদ্দিন চত্বরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা। এই এলাকাটি অবশ্য জনতা ব্যাংক মোড় নামেই পরিচিত। এটি বেশ কয়েকটি সড়কের সংযোগস্থল। চত্বরের চারপাশেই ফরিদপুর শহরের আধুনিক বিপণিবিতানগুলো গড়ে উঠেছে। আছে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখানে লোকসমাগম বেশি। ফলে সকাল থেকেই এখানে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হচ্ছে

উঁচু সেতু দিয়ে শহর পারাপার করতে হয় বলে ফরিদপুর শহরে প্যাডেল চালিত রিকশার সংখ্যা এখন বেশ কম। ব্যাটারিচালিত হাজার হাজার ইজিবাইক ব্যাটারি যুক্ত রিকশা এই শহরের প্রধান বাহন। এই তিন চাকার বাহনগুলো সড়কের দুই পাশে যাত্রীর জন্য থেমে থাকে। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়

শহর ঘুরে দেখা গেল, জনতা ব্যাংক মোড় ছাড়াও থানা রোড, ভাঙ্গার মোড়, মহিম স্কুল মোড়, মুজিব সড়কের হাসপাতালের মোড়, সুপার মার্কেটের সামনে, পুরোনো বাসস্ট্যান্ড গোয়ালচামট এলাকার হোটেল ্যাফেল ইনের সামনে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রায় সারা দিনই এখন এসব এলাকা যানজটে স্থবির হয়ে থাকে

পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী পপি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবদুল কাইয়ুম জানালেন, প্রায় ২০ দিন আগে ভাঙ্গা সড়ক মোড় থেকে বরিশাল সড়ক পর্যন্ত রাস্তার পাশ দিয়ে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে নর্দমা খোঁড়া হয়েছে। সেই মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে অপর পাশ দিয়ে। ফলে এই ব্যস্ত রাস্তাটি সরু হয়ে পড়েছে। শত শত ইজিবাইক চলাচল করে এই পথে। ফলে সারা দিন সড়কটিতে যানজট লেগে থাকে। এই এলাকার দোকানের বেচাকেনাও কমে গেছে

যানজট নিয়ে দুর্ভোগের একই রকম প্রতিক্রিয়া জানালেন জনতা ব্যাংক চত্বরের ব্যবসায়ী কার্তিক চন্দ্র রায়। তিনি বললেন, বিকেল থেকে এখন এতই যানজট হচ্ছে যে রমজান মাসের শুরু থেকে চত্বর থেকে দক্ষিণে থানা রোডের মোড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দড়ি বেঁধে দিয়ে ইজিবাইক রিকশা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এই এলাকায় অনেক সুপার মার্কেট। ঈদের কেনাকাটা করতে বিকেল থেকে লোকসমাগম বাড়ে। সড়কের মুখে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ায় কিছুটা হলেও যানজট কমছে

শহরের যানজট সম্পর্কে জেলা পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানালেন শহরে আয়তন জনসংখ্যা আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়েছে। তাদের চলাচলের প্রয়োজনেই যানবাহনের সংখ্যাও বেড়েছে। এখন প্রায় আট থেকে দশ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চলে। ব্যাটারিচালিত প্যাডেল রিকশার সংখ্যা আরও বেশি।
পুলিশ সুপার বলেন, পুরোনো এই শহরের সড়কগুলো খুব বেশি প্রশস্ত করা হয়নি। ফলে মোড়গুলোতে যানজট হচ্ছে। ইজিবাইকের কোনো নম্বর বা লাইসেন্স এসব নেই। কিন্তু এর সঙ্গে মানুষের জীবিকার বিষয়টি জড়িত বলে মানবিক কারণে তাদের প্রতিরোধও করা যাচ্ছে না। এসব ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দিলে বহু লোক জীবিকা হারাবে। ওদিকে শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য লোকবল কম রয়েছে।
সুভাষ সাহা বলেন, এসব সমস্যার পরও তিনি চেষ্টা করছেন ব্যস্ত মোড়গুলোতে যেন যানজট সৃষ্টি না হয়

Leave a Reply