রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় মেয়েকে যৌনপল্লীতে বিক্রির সময় বাবা আটক ॥VOICE OF FARIDPUR NEWS

ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিজের কন্যা সন্তানকে বিক্রির সময় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ আটক করেছে এরশাদ আলী (৩৫) নামের এক পাষন্ড পিতাকে। এসময় শিল্লী (৩৫) নামের এক যৌনকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে।
এরশাদ আলী নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের আজগর সোনার ছেলে ও শিল্পী নীলফমারী জেলার ডোমার উপজেলার পাংগা চৌপটি গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) ওলিয়ার রহমান বাদি হয়ে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও উদ্ধার হওয়া কিশোরী জানায়, এরশাদ আলীর প্রথম স্ত্রীর ঘরে জন্ম নেয়া এই কিশোরীসহ আরো এক কন্যাকে ফেলে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিছুদিন পর দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথেও তার সর্ম্পক ভালো যাচ্ছিলনা। কিশোরীর মাও দ্বিতীয় বিয়ে করে। প্রথম স্ত্রী ও তাদের সন্তানদের সে দেখভাল করতো না। প্রথম ঘরের বড় সন্তান হচ্ছে এই কিশোরী। বাবা-মার ছাড়াছাড়ি হওয়ায় এই কিশোরী কন্যা একবার নিজের ফুফুর কাছে আবার মায়ের কাছে এভাবে দিন পার করছিল সে। এরশাদ আলী পেশায় রিক্সা চালক। মাঝেমধ্যে সে দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আসা যাওয়া করতো। আসা-যাওয়ার সুবাদে যৌনকর্মী শিল্পীর সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। কয়েকদিন আগে এই কিশোরী কন্যাকে দেখা করতে বলে।
কিশোরী জানায়, তার বাবা মায়ের অনেক আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বাবা ও মা দু’জনই আবার বিয়ে করে সংসার করছেন। সে কখনো দাদির কাছে, কখনো ফুপুর কাছে আবার কখনো মায়ের কাছে থাকত। এ পরিস্থিতিতে তার বাবা তাকে বলেন, ‘তোমার খাওয়ার খরচ দিয়ে আমি তোমাকে ঢাকায় ভালো একটি জায়গায় রেখে দিব, সেখানে তুমি ভালো থাকবে।’ বাবার কথায় রাজি হয়ে গত শনিবার সে বাবার সাথে ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু তার বাবা তাকে ঢাকা না নিয়ে সরাসরি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে।
এসময় সে তার বাবার বিচার চায় কিনা জানতে চাইলে কিশোরী কান্না করতে করতে বলে, ‘আব্বু ভূল করে ফেলেছে। আব্বুকে ভালো হওয়ার জন্য একবার সুযোগ দেন স্যার।’ এসময় এক নরপশু পিতার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সে কোথায় যেতে চায় জানতে চাইলে সে জানায়, ‘আমি আমার মা’র কাছে যেতে চাই।’
গ্রেফতার হওয়া এরশাদ আলী ও যৌনকর্মী শিল্পীর সাথে কথা বলে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বাবা এরশাদ আলীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যাতায়াতের সূত্র ধরে যৌনকর্মী শিল্পীর সাথে পরিচয়। এরশাদ আলী শিল্পীকে প্রস্তাব দেয় একটি মেয়ে এনে দিলে তাকে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে। কিন্তু শিল্পী তাকে ৩০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। এই ৩০ হাজার টাকার জন্যই এরশাদ আলী তার মেয়েকে যৌনপল্লীতে নিয়ে আসে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. এজাজ শফী জানান, প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি দল শনিবার দিনগত রাতে ছদ্মবেশে যৌনপল্লীতে বিক্রির সময় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় হাতেনাতে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত এরশাদ আলী ও শিল্পীকে কারাগারে এবং উদ্ধার হওয়া কিশোরীর নির্ভরযোগ্য কোন অভিভাবক না থাকায় আদালতের মাধ্যেমে তাকে ফরিদপুর সেভ হোমে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply