রাজশাহীতে গ্রেপ্তার সাত ‘জঙ্গি’ একই পরিবারের

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন সাত ‘জঙ্গি’ একই পরিবারের; যাদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচ কলেজছাত্রী। বুধবার ভোরে গোদাগাড়ী উপজেলার ছয়ঘাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।

সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তাদের সাংবাদিকের সামনে হাজির করা হয়।

এরা হলেন হাসান আলী (৪৩), তার স্ত্রী সেফালী খাতুন (৩৫), তাদের দুই মেয়ে ফারিহা খাতুন কনা (১৭) ও হানুফা খাতুন (১৯)। হাসান আলীর ভাতিজি মৃত রেজাউল করিমের তিন মেয়ে ফারজানা আকতার সুইটি (১৭), রাজিয়া সুলতানা তিশা (২২) ও রোজিনা সুলতানা কলি (২৫)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ বলেন, গত ১৪ এপ্রিল গোদাগাড়ী এলাকায় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বিরোধী লিফলেট বিতরণ করা হয়। বেশ কয়েকজন নারী বোরখা পরে লিফলেটগুলো বিতরণ করেন।

“পরে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে দুইজন নারীকে শনাক্ত করে। এরপর বুধবার ভোরে অভিযান চালিয়ে ছয় নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

এ সময় তাদের বাড়ি থেকে বেশকিছু লিফলেট ও জিহাদি বই পাওয়া যায়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুইজন জেএমবি ও পাঁচজন ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থার’ সঙ্গে জড়িত বলে এসপি শহিদুল্লাহ জানান।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেপ্তারদের বাড়ি গোদাগাড়ীর ছয়ঘাটি গ্রামে। এদের মধ্যে হাসান আলী ও সেফালী খাতুন বেনিপুর জঙ্গি হামলার মামলায় পলাতক আসামি।

“বেনিপুরের আস্তানায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে তাদের নাম আসে। বিশেষ করে বেনিপুরের আস্তানায় আত্মসমর্পণ করা সুমাইয়া জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী ও সেফালীর নাম প্রকাশ করেছেন। এরপর থেকে পুলিশ তাদের খুঁজছিল।”

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আটক হাসান আলীর দুই মেয়ে এবং তার ভাই রেজাউল করিমের তিন মেয়ে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ফারিয়া খাতুন কনা গোদাগাড়ীর প্রেমতলি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, হানুফা খাতুন রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, ফারজানা আক্তার সুইটি প্রেমতিল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী, নাদিয়া সুলতানা তিশা রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং রোজিনা সুলতানা কলি প্রেমতলি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

Leave a Reply