রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ তুলে ধরলেন খালেদা জিয়া

ফোকাস বাংলা নিউজ: প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা’ দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, তার দল ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে ক্ষমতায় ভারসাম্য আনবে।বুধবার (১০মে) বিকালে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে- তার রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।
বিকাল সাড়ে ৪টায় গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন শুরুর কথা থাকলেও তা শুরু হয় ২৫ মিনিট দেরিতে। বেশ কিছু কর্মীকে এ সময় হুড়োহুড়ি করে বলরুমে ঢুকতে দেখা যায়। সংবাদ সম্মেলনে আগামীতে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী কী করবে, তার বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ তুলে ধরেন খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবন্দ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রূপকল্পের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হস্তক্ষেপ বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হবে না।প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, গণতন্ত্রের চেয়ে উন্নয়ন শ্রেয় এই ধারণা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করবে।সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যে ‘বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে, সেগুলো সংস্কার করার অঙ্গীকারের কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধান সংশোধন করে গণভোট ব্যবস্থা পুনপ্রবর্তন করবে এবং জাতীয় সংসদকে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করবে। ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে জাতীয় সংসদে উচ্চ কক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।বিএনপি জণগণের হাতেই রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায়। আমরা ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল ভোট দেওয়ার দিনে আবদ্ধ রাখতে চাই না।খালেদা প্রতিশ্র“তি দেন, তার দল রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ ও কারা ব্যবস্থানায় সংস্কার আনার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করবে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করা হবে ন্যায়পালের পদ।তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের দমন পীড়নে যখন আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন ক্ষমতাসীনদের দেওয়া হচ্ছে দায়মুক্তি।বিএনপির সময়েই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছিল বলে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ করে এলেও খালেদা জিয়া দাবি করেন, তার দল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ বিশ্বে স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
তিনি প্রতিশ্র“তি দেন, তার দল ক্ষমতা গেলে ওই ধরনের কোনো কর্মকান্ড বরদাশত করবেন এবং জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ধর্মের শিক্ষার প্রচার এবং শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনাকে সুসংহত করার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাস দমনের একটি কর্মকৌশল প্রণয়ন করবে বিএনপি।  খালেদা জিয়া বলেন, দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলে তার দল সালিশী আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবে। সুপ্রিম কোর্টের অধীন পৃথক সচিবালয় করবে। বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ সকল কালা কানুন বাতিল করবে। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের অবসান ঘটাবে।বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি ২০২১ সালের মধ্যে দিন বদলের ইশতেহার ‘রূপকল্প ২০২১’ দিয়ে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।  অন্যদিকে ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর দুই দফায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়েও সাফল্য পায়নি খালেদার দল। দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি এখন সংসদের বাইরে।স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের দায় সরকারকে দিয়ে এলেও বিভিন্ন সময়ে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেছে জ্যেষ্ঠ নেতাদের কথায়।  এই প্রেক্ষাপটে গতবছর ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে ‘ভিশন ২০৩০’ এর রূপরেখা তুলে ধরেন ১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়া। এই সংবাদ সম্মেলনে তারই পূর্ণাঙ্গ চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে বলে বিএনপি নেতাদের ভাষ্য। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, অন্য কোনো রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করলে তা প্রতিরোধ করা হবে।বাংলাদেশের ভূখন্ডে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে বিএনপি বরদাশত করবে না বলেও ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।ক্ষমতায় গেলে বিএনপির পররাষ্ট্র নীতি কী হবে তার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চালু করবে স্বাস্থ্যবিমা।খালেদা জিয়া বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য এ হবে বিএনপির স্বাস্থ্যনীতি। সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার নিমিত্তে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হবে।ালেদা জিয়া আরো বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবিমা চালু করা হবে। সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিপি (জেনারেল প্র্যাকটিশনার) ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হবে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একজন চিকিৎসক নির্দিষ্ট থাকবেন। এতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে। অপরদিকে চিকিৎসকদেরও কর্মসংস্থান হবে। গরিব মানুষের জন্য ৫০ ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যবিমার ধারণা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশে এ ব্যবস্থা আছে। স্বাস্থ্যবিমা করা হলে মানুষ চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা পাবে। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পেতে পারে।এ ছাড়া চিকিৎসক সংক্রান্ত জিপি ধারণাও দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে নেই।   বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করে। বিএনপি সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে। সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব মিথ্যা মামলা প্রত্যহার করা হবে। তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে। মেয়েদের সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদেরও স্নাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছেলে ও মেয়েদের শিক্ষা উপবৃত্তি সম্প্রসারণ করার কথাও বলেছেন তিনি।  খালেদা জিয়া বলেন, মেয়েদের এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বিদেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনের সুবিধার্থে মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে।বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, এক দশকের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা হবে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য জাতীয় টিভিতে একটি পৃথক চ্যানেল চালু করা হবে। উচ্চপর্যায়ের শিক্ষা হবে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে সমৃদ্ধ। গুরুত্ব দেওয়া হবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর। গড়ে তোলা হবে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়।
এতে ‘ভিশন-২০৩০’ নামের এ রূপকল্পে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, বিরোধী দল থেকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার পদ, ২০৩০ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা, মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার, প্রবৃদ্ধি দুই অংকে নেয়া, দেশীয় বিনিয়োগে নানা সুযোগ-সুবিধাসহ আড়াই শতাধিক দফা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।এছাড়া বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ও বন্দি অবস্থায় অমানবিক নির্যাতনের অবসান ঘটানো, আটক অবস্থায় মৃত্যুর তদন্ত, উচ্চআদালতে বিচারক নিয়োগে আইন, ন্যায়পাল গঠন, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা ও তদারকি বাড়ানো, বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পুলিশের এএসআই ও কনস্টেবলদের ওভারটাইম ও রেশনের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য দেয়ার পাশাপাশি সমমূল্যের অর্থ দেয়াসহ সার্বিক সুবিধা দেয়ার বিষয়গুলো ভিশন ২০৩০ এ অন্তর্ভুক্ত ছিল।রূপকল্প ২০৩০-এর যুব, নারী ও শিশু অংশে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি বেকার যুবশক্তিকে উৎপাদনশীল কর্মকান্ডে নিয়োগের জন্য দেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের চাহিদার নিরিখে যুবসমাজকে যথাযথভাবে দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে। যুব উদ্যোক্তাদের বেশি বেশি করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ এবং কর ছাড় দেওয়া হবে।নারী উদ্যোক্তাদের প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ গ্রহণের পথে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের অধিকতর উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংকঋণ এবং কর-ছাড় দেওয়া হবে। খালেদা জিয়া বলেছেন, শিশুসন্তান রেখে নারীরা যাতে নিশ্চিন্তে কাজে মনোনিবেশ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক ডে-কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে।সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুব, নারী ও শিশুদের জীবন বিকাশের চাহিদার নিরিখে যথোপযুক্ত উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করা হবে। জাতীয় উন্নয়নে যুব ও নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদানকে বিএনপি দৃঢ়তার সঙ্গেবিশ্বাস করে। দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিএনপি সকল কর্মকা-ে নারীসমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সকল বাধা অপসারণ করা হবে।খালেদা জিয়া বলেন, নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু-শ্রম রোধে কার্যকর বাস্তবানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য কোনো দেশ হস্তক্ষেপ করলে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন খালেদা জিয়া। দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে বিএনপি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিএনপি অন্য কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করবে না।একইভাবে বিএনপি দৃঢ় অঙ্গীকার করছে যে, অন্য কোনো রাষ্ট্রও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করলে শক্ত প্রতিরোধ (ৎবংরংঃধহপব) গড়ে তোলা হবে।সীমান্তের বাইরে কোনো প্রভু নেই উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, ‘বিএনপি বিশ্বাস করে, আমাদের সীমান্তের বাইরে বাংলাদেশর বন্ধু রয়েছে, কোনো প্রভু নেই। বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিএনপি মুসলিম উম্মাহ ও প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তুলবে। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার দুপুরে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খসড়া চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এ ভিশন চূড়ান্ত করা হয়।আগামী নির্বাচনে অংশ নিলে ‘ভিশন-২০৩০’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই প্রণয়ন করা হবে নির্বাচনী ইশতেহার।

Leave a Reply