লাশের কাছে আসেনি কেউ ॥ ফরিদপুরে ওসি’র নেতৃত্বে করোনা আক্রান্তে মৃতের দাফন সম্পন্ন

মাহবুব পিয়াল,ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ করোনা আক্রান্তে মৃত আইভি আক্তার (২২) নামে এক মহিলার লাশ দাফন করেছে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ৩ রা মে ভোর ৫ টার সময় ঢাকার কুর্মিটলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। করোনা আক্রান্তে মৃত আইভি আক্তার রাজবাড়ি জেলার, গোয়ালন্দ থানাধীন, আলম চৌধুরী পাড়া এলাকার ফয়েজ শেখের কন্যা। মৃতা আইভি আক্তার করোনায় মৃতুবরণ করায় তার নিজ জেলা রাজবাড়িতে দাফন করতে গেলে, স্থানীয় লোকজন দাফন করতে বাধা সৃষ্টি করে। নিরুপায় হয়ে আইভি আক্তারের মরদেহ তার শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুর কোতয়ালী থানার দয়রামপুর এলাকার আদেল ব্যাপারির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এই খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোরর্শেদ আলম ও এসআই (নিঃ)/মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রত ঘটনাস্থলে পৌছান। সেখানে পৌছে দেখা যায় স্থানীয় লোকজন আদেল ব্যাপারির বাড়ির লোকজনদের বাইরে বের হতে নিষেধ করে এবং বাড়িটি অঘোষিত লকডাউন ঘোষনা করে বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখে। এ অবস্থায় কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোরর্শেদ আলম এর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় মৃতদেহ গাড়ি থেকে নামানো হয় এবং পুলিশ সদস্যরাই কবর খোড়াসহ জানাযা শেষে মৃতদেহের দাফন সম্পন্ন করেন। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোরর্শেদ আলম মৃতার পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন। এই মহামারি করোনা ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হয়েছে শুনলেই তার আপনজন বাবা- মা, ভাই-বোন, দুরে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় কোতয়ালী থানা পুলিশের এই মানবিক কর্মকান্ডকে এলাকাবাসিসহ ফরিদপুরের আপামর জনসাধারন ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোরর্শেদ আলম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “পুলিশ জনগনের বন্ধু। দেশের এই বিপদময় সময়ে সাধারন মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকাই পুলিশের দায়ীত্ব বলে আমি মনে করি। আর সেই দায়ীত্ব বোধ থেকেই পুলিশ এই কাজটি করেছে”।

Leave a Reply