শিক্ষাকে পণ্য করে তোলা সুশিক্ষার অন্তরায় : সলিমুল্লাহ খান

ডেস্ক রিপোর্ট : শিক্ষাকে পণ্য করে তোলা সুশিক্ষার একটি বড় অন্তরায় বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান। রোববার ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের আলোচনায় তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় আরও অনেক সমস্যা আছে যেগুলো আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেভাবে সংস্কার করছি তার একটা দিক হলো যে, শিক্ষার্থীদের বেতন বৃদ্ধি করা।
একটা দিক লক্ষ্য করতে হবে আমাদের মোট জাতীয় আয়ের কত শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যবহার করি?
পঞ্চাশের দশকে স্বাধীন হওয়ার পরে ভারত একটা আইন করেছিল যে, মোট জাতীয় আয়ের শতকরা ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে খরচ করা হবে। কিন্ত ভারত কখনই সেটা খরচ করেনি। এখনো ভারতের শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ খরচ হয় শতকরা সাড়ে তিন টাকা। একমাত্র মালদ্বীপ শিক্ষাখাতে খরচ করছে ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ খরচ করছে ২.২। এটা বলার কারণ হলো, আমরা শিক্ষা খাতে একশ টাকার মধ্যে ২টা খরচ করি। এই সমস্যাটা হলো আমাদের মূলে।
তিনি বলেন, এর কারণ, আমাদের এখানে উচ্চ শিক্ষাকে মনে করা হচ্ছে পণ্য। একটা প্রাইভেট সম্পত্তি। কিন্তু এটাকে একটা পাবলিক সম্পত্তি এটা মনে করা হচ্ছে না। কারণ সকলের ভাবনা, যে শিক্ষিত হবে সে শুধু তার পরিবারকের কাজে লাগবে। কিন্তু একজন শিক্ষিত লোক যে গোটা জাতির প্রয়োজন মিটাচ্ছে সেই বিষয়টি ভাবা হচ্ছে না। এই সমস্যার সমাধানে আসতে হবে আমাদের ।
আজকে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন নীতিতে শিক্ষাকে মনে করা হয় এটা পণ্যের মতো। যার খরচ সে মেটাবে। আগে মেটাতো মা বাবা। এখন বলছে ছাত্র নিজেই মেটাবে অনেক দেশেরমত। যেমন পাকিস্তানের চালু আছে যে, শিক্ষার্থীদের লোন দেওয়া হবে। এত বোঝা যাচ্ছে শিক্ষাও অন্য ১০ পণ্যের মত পণ্য। তাই দেশের মধ্যে এটাকে বৃদ্ধি করে এটাকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। আর আন্তর্জাতিকভাবে এটার বিনিময় হবে। কিন্তু এমন শিক্ষাব্যবস্থা থাকায় ক্যলিফোর্নিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে । এখন ক্যলিফোর্নিয়ার শিক্ষায় খরচ বছরে ২৫ থেকে ৪৫ হাজার ডলার তাও আবার ¯œাতক শেষ করার আগেই। কিন্তু এই তুলনায় আমাদের দেশের শিক্ষার খরচ যথেষ্ট কম। তাই আপনি যদি অন্য দেশের সাথে তুলনা করতে চান তাহলে আমাদের দেশের শ্রমিকের খরচও বাড়াতে হবে। তাই আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, আমাদের দেশের জাতীয় আয় থেকে আরও কিছু অংশ শিক্ষার জন্য বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেকে বলে যে, আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষার বেকারের সংখ্যা বারছে। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষিতর বেকারত্বের হার সবচেয়ে কম। ভারতে এটা শতকরা ১২ শতাংশ। বাংলাদেশে এটা ৩ থেকে ৪ শতাংশ। তাই আমাদের উচ্চ শিক্ষার জায়গা অনেক থাকার পরেও আমাদের প্রাইভেট কম্পানিরা বলছেন যে, এটার দায়িত্ব প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে হবে। কেন দিতে হবে? কারণ যে যার খরচে পড়ালেখা করবে। ধরে নেওয়া হচ্ছে এতে জাতীয় কোন দায়িত্ব নাই। যা দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় সম্পূর্ন ভিন্ন। সেখানে জাতীয় পর্যায়ে গবেষণাগার তৈরি হচ্ছে । অথচ আমাদের দেশের লেখাপড়ার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

Leave a Reply