শিশুটি কোথায় যাবে?

স্টাফ রিপোর্টারঃ
অসুস্থ মায়ের সাথে হাসপাতালে এসেছিল কোলের চার বছরের শিশু কন্যা। কিন্তু মা মারা যান। এখন শিশুটির কোথায় যাবে।
গত শনিবার বিকেল ৬টার দিকে দুজন অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তি শিশুটির মাকে অসুস্থ অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে যান। মায়ের সাথে আসে চার বছরের ওই শিশু।
মাকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের ১৮ নম্বর শয্যায় ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে আসার মাত্র তিন ঘন্টা পর শিশুটির মা শনিবার নয়টার দিকে মারা যান।
হাসপাতালের খাতায় শিশুটির মায়ের নাম সখিনা বেগম, বয়স ৩০, স্বামী এসএম সোহাগ, বন্দর থানা, জেলা নারায়নগঞ্জ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা রয়েছে। জানার উপায় নেই এ ঠিকানা সঠিক কিনা।
ওই হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কর্মরত জ্যেষ্ট স্টাফ নার্স সাজেদা বেগম জানান, শিশুটির মা এক মাস আগে এ হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি আরও বলেন, স্বামী, স্বজন পরিত্যাক্তা শিশুটির মা ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সাখাওয়াত মোস্তফা জানান, এই রোগীর সাথে কোন পরিচর্যাকারী আসেন নাই। যে ঠিকানা দেওয়া হযেছে তা যাচাই করে দেখার জন্য নেই কোন মুঠোফোন নম্বর। মা মারা গেছে কিন্তু এই মা মরা শিশুটি কোথায় যাবে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিশুটির মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার শরীরের ডাক পাশ অবস হয়ে গিয়েছিল। শনিবার বিকেলে তাকে তার শিশু সন্তানসহ মুমূর্ষ অবস্থায় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যাক্তি ভর্তি করে দিয়ে যান। তিনি বলেন, শিশুটির বিষয়ে আমি জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। কিন্তু ফরিদপুরে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের রাখার কোন সুযোগ নেই। আপাতত শিশুটিকে এক আয়ার তত্ত্বাবধানে রাখা হযেছে।

Leave a Reply