সদরপুরে ২৬ জন শ্রমিক নিয়ে পদ্মা নদীতে নৌকাডুবি, ২১ উদ্ধার, নিখোঁজ ৫

মাহবুব পিয়াল, ভয়েস অব ফরিদপুর নিউজ ॥ ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে নৌকাডুবীর ঘটনা ঘটেছে। ২১জন জীবিত উদ্ধার ও নিখোঁজ রয়েছে ৫জন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নে শয়তানখালী পদ্মা নদীর ঘাট থেকে বাদাম তোলার জন্য ২৬জন শ্রমিক নিয়ে চরনাছিরপুর চরে যাচ্ছিল ছোট ইঞ্জিন চালিত নৌকাটি। পদ্মা নদীর মাঝ পথে হঠাৎ নদীতে বাতাস উঠে এলে নদীর মাঝেই নৌকা ডুবে যায়।
২৬ জনের মধ্যে ২১জন সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠতে পারলেও এ ঘটনায় এখনও পাঁচজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূরবী গোলদার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে স্প্রীটবোট ও ট্রলার দিয়ে সন্ধান চালনো হচ্ছে। ডেকে পাঠানো হয়েছে ডুবরি দলকে।
নৌকাডুবীতে নিখোঁজ শ্রকিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার মো. শাহাবুর (৩৫), শিলন মিয়া (৩৮), আব্দুর রাজ্জাক হোসেন (৪০) এবং সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের বাছের খার ডাঙ্গী গ্রামের মো. সহিদ (১৬) ও রুবেল হোসেন (২৭)।
নিখোঁজদের পরিবারের মাঝে চলছে স্বজন হারানোর আর্তনাদ। স্বজনহারা পরিবারগুলোর মাঝে সান্তনা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার। এ সময় সাথে ছিলেন সদরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান।
জানা গেছে, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢেউখালীর নওয়াব মোল্লার ঘাট থেকে প্রথমে ১৬জন শ্রমিক ও পরে শয়তানখালীঘাট থেকে ১০জন মোট ২৬জন শ্রমিককে বাদাম তোলার জন্য জমি ও ট্রলারের মালিক চর শালিপুরের কাজীকান্দা গ্রামের কৃষক মো. লালন ফকির চর নাসিরপুর ইউনিয়নের দিয়ারার চরে যাচ্ছিলেন।
লালন ফকিরের ছেলে মো. শাকিল হোসেন (১৮) নৌকা চালিয়ে পদ্মা নদী পাড় হচ্ছিল। ২৬ জন শ্রমিকের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার ৬জন এবং ২০জন চরনাছিরপুর ও ঢেউখালী ইউনিয়নের।
মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ছোট একটি নৌকায় চুয়াডাঙ্গার ৬ শ্রমিকসহ মোট ২৬ জন শ্রমিক বাদাম তুলতে যাচ্ছিলেন। নৌকা ডুবির পর ২১জন শ্রমিক সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠতে পারলেও বাকি ৫জন উঠতে পারেননি।
ওই নৌকার ছিলেন চুয়াডাঙ্গার শ্রমিক মো. আমজেদ আলী (৩২)। তিনি জানান, শয়তানখালী ঘাট থেকে নৌকাটি ছাড়ার ৫ মিনিট পর নদীর তীব্র ¯্রােতের মধ্যে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তিনি বলেন, নৌকার ২১ জন যাত্রী সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠতে পারলেও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গার তিনজন এবং স্থানীয় দুই শ্রমিক রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার, সদরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী শফিকুর রহমান, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ লুৎফর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূরবী গোলদার বলেন, যে নৌাকাটি ডুবে গেছে সেটি ছোট আকারের একটি মাছ ধরার নৌকা। নৌকাটির ধারণ ক্ষমতা ছিল ১০/১২জন। কিন্তু ওই নৌকায় পাড় হচ্ছিলেন ২৬জন। ফলে অধিক যাত্রী ও নদীর তীব্র ¯্রােতের কারনে নৌকাটি পদ্মা নদীতে ডুবে যায়।
তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকেই স্প্রীটবোট নিয়ে নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান করা হচ্ছে পাশাপাশি তলব করা হয়েছে দমকল বাহিনীর ডুবরি দলকে।
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নৌকার মালিক মো. লালন ফকিরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছেন।

Leave a Reply