স্থায়ী ক্যাম্পাস ইস্যুতে নমনীয় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের আলটিমেটাম থেকে সরে আসছে সরকার। নতুন করে সময় না বাড়ালেও কিছুটা নমনীয় মনোভাব নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন অমান্যকারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
জানা গেছে, ২০১০ সাল থেকে ক্যাম্পাস স্থাপনে পাঁচ দফায় কড়া আলটিমেটাম দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সে আলটিমেটামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়। তারপরও এসব বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ বা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কোনোটিই করা হয়নি। বরং এদের বারবার সময় দিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সিংহভাগ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করছে। তাই আমরা কারও বিরুদ্ধে কঠোর হতে চাই না। তবে আইন অমান্যকারীদের কাউকে ছাড় দিতে চাই না। এ কারণে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি)চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নানের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন বলে জানান।
বৈঠক শেষে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, যেসব বিশ্ববিদ্যালয় সাত বছরের বেশি সময় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে অথচ এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করেনি তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ কারণে উচ্চপর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনে নির্দেশ অমান্য, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ার কারণসহ তালিকাভুক্ত ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ত্রুটি খতিয়ে দেখা হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেব। জানা গেছে, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আকতার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং ইউজিসির সদস্য ড. শাহনেওয়াজ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ হাসান চৌধুরী ও ইউজিসির কর্মকর্তা জেসমিন পারভিনকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তথ্যমতে, আইনের আওতায় ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টি স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে। পাঁচটির ট্রাস্ট্রি বোর্ড নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর ইবাইস ও প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য এখনও জমি ক্রয় করেনি।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সর্বশেষ গত বছর জানুয়ারি মাসে ৩৯ বিশ্ববিদ্যালয়কে আলটিমেটাম দিয়েছিল। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি আলটিমেটাম শেষ হয়। আলটিমেটামে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ক্যাটাগরির একটি হচ্ছে যেগুলো জমি কেনেনি সেগুলো স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হবে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে ছিল জমি কিনেছে এবং ভবন নির্মাণাধীন, এগুলোর বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে ছিল জমি কিনেছে কিন্তু ভবনের কাজ শুরু করেনি, ভবনের নকশা অনুমোদনসহ অন্য কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। এ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় এক বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের পাশাপাশি আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আরেক ক্যাটাগরিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়া ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদপত্র দেয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যৌক্তিক কোনো কারণ থাকলে অপারগদের সহযোগিতা করা হবে। আর যারা আইন অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply